⚽ SAFF MEN'S CHAMPIONSHIP 2026
🇧🇩 Bangladesh • Dhaka
🏆 Tournament Starts In
00 Days
00 Hours
00 Minutes
00 Seconds
🇧🇩 Bangladesh Time (BDT) 00:00:00
🇸🇦 Saudi Arabia Time (KSA) 00:00:00

দত্তক সন্তান কি সম্পত্তির উত্তরাধিকার পাবে? ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী

 


দত্তক নেওয়া সন্তানকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা মানবিক ও সওয়াবের কাজ হিসেবে ইসলাম উৎসাহিত করেছে। তবে দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে বংশপরিচয়, উত্তরাধিকার বা পারিবারিক সম্পর্ক পরিবর্তনের সুযোগ ইসলামে নেই।


ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোনো শিশুকে দত্তক নিলেও সে লালনকারী ব্যক্তির ঔরসজাত সন্তান হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে উত্তরাধিকার, মাহরাম সম্পর্ক বা বংশগত অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না। সন্তানের প্রকৃত পিতৃপরিচয়ই ইসলামে স্বীকৃত পরিচয় হিসেবে বিবেচিত।


কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সংগত।” (সূরা আহযাব: ৪-৫)


এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারও পরিচয় পরিবর্তন করে অন্য কারও নামে যুক্ত করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।


হাদিসেও বিষয়টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজের পিতাকে ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।” (সহিহ বুখারি)


এ কারণে দত্তক সন্তান লালনকারী পরিবারের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। একইভাবে লালনকারীও দত্তক সন্তানের সম্পত্তির ওয়ারিশ হন না, যদি না আলাদা কোনো বৈধ ব্যবস্থা যেমন ওসিয়ত বা উপহার করা হয়।


তবে ইসলাম দত্তক শিশুর প্রতি মানবিক দায়িত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এতিম বা অসহায় শিশুকে প্রতিপালন, শিক্ষা-দীক্ষা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়াকে মহান সওয়াবের কাজ বলা হয়েছে। সহিহ হাদিসে এসেছে, এতিমের অভিভাবক জান্নাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গেই নিকটবর্তী অবস্থানে থাকবেন।


ফলে দত্তক সন্তানকে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা দিয়ে বড় করা ইসলামসম্মত হলেও তার বংশপরিচয় পরিবর্তন করা বা উত্তরাধিকারের অধিকার আরোপ করা বৈধ নয়।

Previous Post Next Post