২০ বছর পর ফাইনালে আর্সেনাল


 

সাদা আর লাল জার্সি গায়ে জড়িয়ে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে আছেন হাজার হাজার আর্সেনাল সমর্থক। এমিরেটস স্টেডিয়াম যেন এক আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল, বৃষ্টির বাগড়ায় আবহাওয়া কিছুটা গুমোট হয়ত ছিল, কিন্তু উত্তর লন্ডনের এই উৎসবের আমেজকে তা বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি। বুকায়ো সাকার গোলে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্সেনাল। প্রথম লেগ ১-১ সমতায় থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে গানারদের জয় ২-১ ব্যবধানে।


ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পুরো মৌসুমজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল গানাররা। কারণ একদিকে ছিল ঘরোয়া লিগে শিরোপা জয়ের চাপ। অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ 'ড্রিম'। তাই আর্সেনালের জন্য মঙ্গলবার রাতে অনেকটা স্বপ্নের মতোই। অপেক্ষা শুধু এক কিংবা দুই বছর নয়, দীর্ঘ ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছে গেছে মিকেল আরতেতার শিষ্যরা।


রক্ষণভাগ আগলে রেখে খেলার জন্য বেশ পরিচিত অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তাই সফরকারীদের জালে গোল দেওয়াটা মতেই সহজ ছিল না। তারপরও প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলটা পেয়েছে গানাররাই।


প্রথমার্ধের একবারে শেষের দিকে, অর্থাৎ, ৪৪ মিনিটে ভিক্টর গিওকেরেসের পাস করা বল অ্যানগুলার শট নিয়েছিলেন লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড। তবে, দুর্দান্ত এক সেভ করে সেই শট প্রতিহত করেন অ্যাটলেটিকোর গোলকিপার ইয়ান ও’ব্লাক।


কিন্তু বল পুরোপুরিভাবে ক্লিয়ার করতে পারেননি ও’ব্লাক। সুযোগ পেয়ে বল ট্যাপ ইন করেন সাকা।


প্রিমিয়ার লিগে ম্যানসিটি এভারটনের মাঠে ড্র করলে আর্সেনালের সামনে ২২ বছরে শিরোপা খরা কাটানোর সুযোগ এসেছে। বাকি তিন ম্যাচ জিতলে লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে তারা। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠায় ডাবলস জয়ের হাতছানি তাদের সামনে।


সেই কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে আর্সেনাল মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা পিএসজির। বুধবার মিউনিখে দ্বিতীয় লেগের সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নামার আগে বায়ার্নের বিপক্ষে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে আছে পিএসজি।


উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ১৭ মে, স্তাড দে ফ্রান্সে, আর্সেনালকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছিল বার্সেলোনা। আর ২০ বছর পর, আগামী ৩০ মে, বুদাপেস্টে বায়ার্ন মিউনিখ কিংবা পিএসজির বিপক্ষে ফাইনালে নামবে গানাররা।

Previous Post Next Post