⚽ SAFF MEN'S CHAMPIONSHIP 2026
🇧🇩 Bangladesh • Dhaka
🏆 Tournament Starts In
00 Days
00 Hours
00 Minutes
00 Seconds
🇧🇩 Bangladesh Time (BDT) 00:00:00
🇸🇦 Saudi Arabia Time (KSA) 00:00:00

পাকিস্তানের ওপর নাখোশ আমিরাত, ফেরত চায় ৩৫০ কোটি ডলার

 


অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে তার দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইসলামাবাদ যখন মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই আবুধাবি হঠাৎ করে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার (৩৫০ কোটি ডলার) ঋণ অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানায়।


চলতি মাসেই এই দাবি করে আবুধাবি। দেশটির এই দাবি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শূন্য করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। পাশাপাশি ২০২৪ সালে আইএমএফ পাকিস্তানকে যে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেইলআউট প্যাকেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সেটিকেও বিপদে ফেলে। তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের আরেক মিত্র ও পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অংশীদার সৌদি আরব এগিয়ে আসে। তারা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয় এবং বিদ্যমান ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণের মেয়াদ এক বছরের বেশি সময়ের জন্য বাড়িয়ে দেয়।


বিশ্লেষকদের মতে, আবুধাবির এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের প্রতি তাদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় পাকিস্তানের তুলনামূলক নরম অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংশ্লিষ্ট সংঘাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ আমিরাত ভালোভাবে নেয়নি।


ব্রিটিশ থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউসের অ্যাসোসিয়েট সহযোগী ফেলো লদ কুইলিয়াম বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমিরাত বিষয়গুলোকে “সাদা-কালোভাবে” দেখছে। তার ভাষায়, “এখানে নিরপেক্ষতার কোনো জায়গা নেই—মধ্যস্থতা করাও এক ধরনের অবস্থান।”


এ ঘটনার পেছনে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার চাপা প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেন ইস্যুতে মতবিরোধ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। পাশাপাশি রিয়াদের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠতা আমিরাতের অস্বস্তি বাড়িয়েছে।


পাকিস্তানের কয়েকজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আমিরাত চায় ইসলামাবাদ যেন ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেয়।


যদিও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে “নিয়মিত আর্থিক লেনদেন” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্কে কোনো দূরত্বের কথা অস্বীকার করেছে।


তবে পর্দার আড়ালে ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে, আবুধাবির এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের ওপর নির্ভরতা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আমিরাত ইতোমধ্যে পাকিস্তানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।


ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান ও যুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে আমিরাত পাকিস্তানকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছে এবং দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখ পাকিস্তানি প্রবাসী কাজ করছেন।


তবে ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। সাম্প্রতিক এই ঋণ ফেরতের দাবি সেই দীর্ঘদিনের অস্বস্তিরই নতুন বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সব মিলিয়ে, এই ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্য এবং মিত্রতার নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

Previous Post Next Post